Saturday, October 5, 2019
পুরাতন বই না ফেলি অন্যর পড়ার সুযোগ করি ∆ মু.সাইদুল শিকদার রণি
পুরাতন বই না ফেলি অন্যর পড়ার সুযোগ করি
শাওন রাস্তার ফুটপাতে হাট ছিল।কোনো কাজ নেই।এমনি হাটতে তার ভাল লাগে।এই হাটার কোনো গৌন্তব্য থাকে না।কেউ মনে খুব আনন্দ নিয়ে হাটে।আবার কেউ মনের দুঃখে হাটে।শাওনের মনে আজ খুব আনন্দ।আজ তার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।শাওন খুব গরীব ঘরের ছেলে।নিজের পড়াশুনার খরচ জোগাতেই সে হিমশিম খায়। কিন্তু তার স্বপ্ন অনেক বড়।তার আর কি দোষ?প্রতিটি মানুষেরি স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে।সবারই আশা থাকে।আর সেই আশা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে।সাওনও তার ব্যতিক্রম না।বেশ কিছুদিন আগে এভাবেই হাঁটছিল ও।পথের ধারে একটি পরানো পত্র-পত্রিকা কেনার দোকান।দোকানটি সামনে কিছু বই বাঁধা।ও মনে মনে ভাবলো।মানুষ বই পুরানো হলে ফেলে দেয়।অথচ কিছু ছেলে মেয়ে টাকার অভাবে বই কিনতে পারেনা।ওদের এলাকায় ভাল কোনো পাঠ্য লাইব্রেরিও নেই।যেখানে ওরা গিয়ে কিছু সময় বই পড়বে।ও ঠিক করল ও নতুন আর পুরাতন বই দিয়ে এক্টি লাইব্রেরি করবে।যেখানে সবাই বই পড়বে।কিন্তু ও তো গরীব।ওর কাছে তো এতো টাকা নেই।ওর কিছু বন্ধু ছিল সাগর,লালন,মৌ,সৈকত।ওদের সাথে বিকালে কথা বলে ঠিক হল,ওরা সবাই মিলে এলাকার কমিশনারের কাছে যাবে।তাকে গিয়ে সব খুলে বলবে।সে হয়তো ওদের ফিরাবে না।যেই বলা সেই কাজ।সবাই মিলে সন্ধ্যায় কমিশনারের অফিসে গিয়ে হাজির।কমিশনার সাহেব খুব ব্যস্ত।তার হাতে কোনো সময় নেই।পিয়ন অদের চলে যেতে বলে।কি আর করার ওরা চলে আসে।আসার পথে শাওন বলে চল আগে একটা কাজ করি।
সবাই এক সাথে বলে, কি কাজ ?
“সবাই আগে যার যার বাসায় পুরানো বই আছে সেগুলোকে নিয়ে আসি।ওগুলো দিয়ে শুরু করি। কি বলিস তোরা?”
সবাই রাজি হল।সবাই বাসায় গিয়ে সবার পরানো বই নিয়ে আসলো।তাও অনেক বই ।সাওন খুব বই পাগল ছেলে।টিউশনি করিয়ে ও প্রতি মাসে একটা-দু’টা বই কিনতো।কিন্তু সমস্যা এগুলো রাখবে কোথায়?মৌ সমাধান করে দিল।
“আমার বাসায় নিয়ে না হয় এখন রাখি।“
লালন বাসায় বই রেখে সবাই চলে গেল যার যার বাসায়।সিন্ধান্ত হল পরের দিন আবার যাবে ওরা কমিশনারের কাছে।
পরের দিন আবার ওরা সন্ধ্যায় চলে এলো কমিশনারের বাসায়।আজও কমিশনার সাবেব কি নিয়ে যেন ব্যস্ত।রুম থেকে বের হচ্ছে না।আবার পিয়ন ওদের ভিতরের ঢুকতে দিছে না।শাওনও খুব রাগ হল।কমিশনার হল জনগনের প্রতিনিধি।তার সাথে সবাই দেখা করতে পারবে।অথচ দু’দিন হল দেখা করতে পারছে না।আজ দেখা করেই তবে যাবে।প্রয়োজনে সারা রাত এখানেই থাকবে।সন্ধ্যা থেকে ওরা বসে আছে কমিশনার কার্যালয়ের বাইরে।কমিশনার সাহেব বেরও হচ্ছে না।আবার ওদেরকে ভিতরে ডাকছে না।অনেক অপেক্ষার পর রাত ১০.৩০ দিকে কমিশনার সাহেব বের হল।কমিশনারকে দেখে শাওন লাফ দিয়ে কমিশনার সাহেবর সামনে দাঁড়াল।
আঙ্কেল একটু দাঁড়ান।আপনার সাথে কথা আছে।
কমিশনার সাহেব চমকে বলেলন,কি কথা বাবু ?
আমরা আপনার সাথে দেখা করবো বলে দ’দিন ধরে ঘুরছি।
কমিশনার সাহেব অভাগ হয়ে যায়।পিয়নের দিকে একবার তাকিয়ে আবার শাওনের দিয়ে তাকিয়ে বলে।
কি বল আমি তো কিছুই জানি না!আচ্ছা বল কি বলবে?
শাওন বলল,আমরা এলাকায় একটি লাইব্রেরি করতে চাচ্ছি।
ভাল তো কর। আমি কি করবো?
আপনার সাহায্য ছাড়া সম্ভব না।আমরা আর্থিক অসচ্ছল।তারপরে আমরা ছোট।আপনারা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা আছেন তারা যদি আমাদের সাহায্য করেন,তাহলে আমরা চলতে পারি।
কমিশনার সাহেব কিছুক্ষন ভাবলেন তারপর মুখে একগাল হাসি নিয়ে বললেন।
আচ্ছা তোমরা শুক্রবার জুম্মার পর এসো।আমি আরো লোকদের সাথে কথা বলে দেখি।তোমরা আজ যাও।
কমিশনার সাহেব চলে গেলেন।শাওন ওরাও বাসায় চলে যায়।
২
শুক্রবার জুম’আর নামাজের পর সবাই আবার কমিশনারের অফিসে যায়।এবার আর অফিসের পিয়ন ওদের বাধা দেয় না।ওরা অফিসের ভিতরে যায়।কমিশনার সাহেব বসে আছে।সাথে কিছু মুরুব্বি।ওদের দেখে বসতে হাতের ইশারায় বসতে বললেন।ওরা বসল।কমিশনার সাহেব ওদের দেখিয়ে বললেন।
এই ওদের কথাই বলছিলাম।ওরা সবাই মিলে পাড়ায় একটা লাইব্রেরি করবে নাকি।কি ঠিক নাকি?ওদের দিকে প্রশ্ন ছুরে দেয়।
জবাব দেয় শাওন, জি। আমরা কিছু বইও সংগ্রহ করেছি।আরো কিছু বই লাগবে।
কমিশনার সাহেব আবার বলেন,ঠিক আছে কিন্তু লাইব্রেরি ত আর একার সাহায্য কিছুই হবে নাহ।সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে।ছোট ছোট বাচ্চারা যে উদ্দ্যেগ নিয়েছে তা আসলেই ভালা উদ্দ্যেগ। কি বলেন আপনারা?
সবাই মত দেয়, হ্যা, ভাল উদ্দ্যেগ।
সকলের কথা শুনে শাওন মনে মনে বলে,মুখে মুখে ভাল আর প্রশংসা তো করতেছে। আসল কাজ হইলে হয়।
কমিশনার ওদের দিকে ফিরে বলেলন,আচ্ছা তোমরা এখন কি করতে চাও?
মৌ বলল,আঙ্কেল আপনারা সবাই মিলে কিছু টাকা দেন আমারা বই ইনে নিয়ে আসি।
শাওন বলল,না।আমি বলি কি;নতুন বই কিনতে বেশ অনেক টাকা লাগবে।তার চেয়ে অনেক জাগায় পুরানো বই পায়া যায়।যেহেতু আমাদের টাকা নাই আমরা পুরানো বই দিয়ে যাত্রা করি।আমাদের সৌল্গান হবে, পুরাতন বই না ফেলি অন্যর পড়ার সুযোগ করি। কি বলেন আঙ্কেন কেমন হয়?
হ্যা তা ঠিক বলছো।ওর কথাইয় সায় দেয় কমিশনার সাহেব।
লালন মাঝ থেকে বলল,আমি বলি কি,একটা কাজ করলে হয় নাহ।আমরা এলাকায় বাসায় বাসায় পুরানো বই থাকলে তা চেয়ে নিই।তাহলেও অনেক বই পেয়ে যাব।
কমিশনার সাহেব বলল, তাহলে তোমরা তাই কর।আমি একটা মাইকের ব্যবস্তা করে দিচ্ছে তা দিয়ে তোমরা সবার কাছে চাও।আর আমি মসজিদেও বলে দিবো তারা যেন নামাজের সময় সবাইকে বলে দেয়।
ওরা সবাই এক সাথে বলল,আচ্ছা।
শাওন বলল,আরো একটা প্রবলেম আছে।
কমিশনার সাহেব বলল,আবার কি প্রবলেম?
শাওন বলল,কিন্তু আমরা বই গুলো রাখবো কোথায়? বা আমরা লাইব্রেরিও বা কোথায় করবো? এটা হল বড় প্রবলেম।
সবাই চিন্তায় পরে গেল।এটা কেউ আগে ভাবেনি।সব কিছুই আগে থেকে পরিকল্পনা করে কাজে নামা উচিত।কমিশনার সাহেবই সমাধান করে দিল।
তোমরা একটা কাজ কর।হাই স্কুলে যে স্টোর রুমটা আছে ওটাকে পরিস্কার করে ওটায় শুরু কর। আমি হেড মাস্টারকে বলে দিবো।সবাই খুশি হয়।ওরা সবাই হাই স্কুলেই পড়ে।ওদের জন্য আরো ভাল হল।সবাই কমিশনার সাহেবকে ধন্যবাদ জানায়।সালাম দিয়ে চলে আসে।
সবাই পুরোদমে কাজ করে আজ ওরা সবাই সফল।আজ লাইব্রেরির উদ্ভাধন।ওদের সোল্গান আজ সফল,পুরাতন বই না ফেলি অন্যর পড়ার সুযোগ করি।লাইব্রেরির একটা সুন্দর নামও দিয়েছে।তরুন্যের শক্তি পাবলিক লাইব্রেরি।
∆ মু.সাইদুল শিকদার রণি
রামপুরা,ঢাকা
০৪/১০/২০১৯
Saturday, September 28, 2019
আমার কথা কি মনে পড়ে ? ।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।
আমার কথা কি মনে পড়ে ?
।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।
সেই শৈশবে কথা
সবাই উঠতাম খুব ভোরে
যখন সূর্য মামাও হত না
আমরা হতাম প্রথম।
ভোরের আগে ভেঙ্গে যেত ঘুম
ফুলের টানে
খুব ভোরে ।
তখনও কুয়াশার মাঝে
উঁকি দেয়া শুরু করেনি প্রথম সূর্যলোক।
কুয়াশায় যেত না দেখা
কে আছে ধারে কাছে
শুধু হত এক দৌড়
কে আবার যাবে চলে?
সে হবে প্রথম।
কে যাবে কার আগে পৌচ্ছে
কুঁড়িয়ে নিবে সে
ভোরের কুয়াশায় ভেজা
প্রথম তাজা বকুল ।
আমার কথা কি মনে পড়ে ?
সেই যে মিষ্টি সকালে
সূর্য যখন শুরু করেছে লুকোচুরি কুয়াশার সাথে ।
আমরা তখন পুকুর পাড়ে
পুতুল সাজাতাম;
পুতুলের বিয়ে দিব বলে ।
সেই পুতুল বিয়ে আর হল না
মনে পরলেই হাসি পায়
তুমি যে সেই চলে গেলে পুতুল নিয়ে
আর এলে না ফিরে ।
আমার কথা কি মনে পড়ে ?
ঢাকা-২৭/০৯/২০১৯.
Tuesday, July 9, 2019
আমি ও বিনা ।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।
আমি ও বিনা
।। মু.সাইদুল শিকদার রণি ।।
সেদিন পাঠশালায়;
আমি ও সে বসে ছিলাম,
দুজন দুজনার হস্ত আলিঙ্গনায় ।
সেদিন সে আমার প্রশ্ন করেছিল,
আবেগ মাখা ভিজা চোখে;
“তুমি কি ভালবাস অকে?’’
আমিও উত্তর দিয়েছিলাম তাকে;তারই প্রশ্নে,
“মনে কি হয় তা ?’’
উত্তর দিয়েছিল সে কেঁদে ফেলে,
“না বাস ভাল অকে।’’
আমি বলেছিলাম,“তবে না।’’
তখন বিনার মুখে;
দেখেছিলাম যে হাসি,
তা চন্দ্রের হাসিকেও হার মানায়।
একদিন জিদের বসে,
তাকে মেরে ছিলাম চড় ।
সে কেঁদেছিল অভিমানে---
আমায় করেনি সে পর ।
দুদিন পর দেখা হয়েছিল,
মোল্লা বাড়ির বাজারে;
অভিমান ভুলে সে হাত নেড়ে,
জাগিয়ে দিয়েছিল আমার ঘুমান্ত হৃদয়কে ।
একেই কি বলে ভালবাসা ?
তবে আমি ভালবাসি তাকে ।
অভিমান না থাকলে নাকি---
হয় গভীর ভালবাসা ।
আমার ও বিনার মাঝেও ছিল গভীর ভালবাসা।
সকল অভিমান ভুলে,
এসে ছিলাম আমরা দুজন কাছা-কাছি
সেই থেকে আমরা দুজন জানি,
আমরা দুজন-দুজন কে খুব ভালবাসসি ।
১০/০৫/২০১২
ঢাকা ।
Product Tags:
কবিতা
Subscribe to:
Comments (Atom)





